Easy Shopping Exprience

ই-কমার্স মানে কি শুধুই অনলাইন কেনা বেচার প্লাটফর্ম?


দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ই-কমার্স সেক্টর সেই সাথে প্রসার বাড়ছে ছোট উদ্যোগতাদের। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন ও সুবিধা ব্যবহার করাকে ই-কমার্স বলে। এটি ইন্টারনেট কমার্সকে সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়। অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা এর সহজ উদাহরণ। বস্তুত, যে কোনো ব্যবসায় ইলেক্ট্রনিক্সের মাধ্যমে পরিচালনা করাই হল ই-কমার্স।

অনলাইন শপিং : পণ্য অনলাইনে বেচাকেনা ই-কমার্সের কমন একটি উদাহরণ। এখানে বিক্রেতারা অনলাইনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দেয়। ই-কমার্সের প্রধানতম সুবিধা হল সময় ও ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা দূর করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি সহজে পণ্য বা সেবার প্রত্যাশিত মূল্য নির্ধারণ করে দেয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে বলতেই হয়। সরকারের জোরালো পদক্ষেপের ফলে বিগত কয়েক বছরে ডিজিটাল বা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জনসেবাসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন লক্ষ করা যায়। বর্তমানে সারাদেশ ৪-জি নেটওয়ার্কের আওতায় প্রবেশ করেছে। সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যাচ্ছে যে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৫-জিও চালু করবে। ইতোমধ্যে সারাদেশে মোট ৫,২৭৫ টি ইউনিয়নকে ০ ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করা হয়েছে যা প্রান্তিক পর্যায়ের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট জীবন ঘনিষ্ঠ নানাবিধ বিষয় যেমন- পরীক্ষার ফলাফল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির তথ্য, চাকুরী বিষয়ক তথ্য, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ই-মেইল যোগাযোগ, জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন, মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিবিধ সরকারি সেবা প্রদানে সহায়তা করছে।

ই-কমার্স হলো ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ব্যবহার করে ওয়েব ও ইলেক্ট্রনিক ডাটা আদান-প্রদানের মাধ্যমে সকল প্রকারের ভৌত এবং ডিজিটাল পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয় করাকে বোঝায়। এটি মূলত অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনার একটি আধুনিক ডিজিটাল মাধ্যম, যা সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন, ব্যবসায়িক লেনদেন ও যোগাযোগ সহজীকরণ এবং সারাদেশে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। ক্রমবিকাশমান বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার কারণে ই-কমার্সের পরিধি এবং জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী বেড়ে চলেছে।

এক জরিপে দেখা গেছে, আগামী ২৫ বছরে বাংলাদেশেও আনুপাতিক হারে তরুণদের সংখ্যা সর্বাধিক বৃদ্ধি পাবে। এ প্রেক্ষিতে ই-কমার্স খাত বিকাশের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে বাংলাদেশের জন্য একটি অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটির ৬৫% মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। সংখ্যার দিক থেকে তাই বাংলাদেশ শুধুমাত্র বৃহৎ (জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে ৮ম) নয়; বরং যুব সম্প্রদায়ের সংখ্যার দিক থেকে বৃহৎ একটি দেশ। প্রতি বছর গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭% এবং বর্ধিষ্ণু নগরায়ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের এ মধ্যবিত্ত শ্রেণীই ই-কমার্স কর্মকান্ডের মূল চালিকাশক্তি হবে।

ই-কমার্সের ক্রেতারা মূলত শহরকেন্দ্রিক; তন্মধ্যে ৮০% ক্রেতার ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের। এদের মধ্যে ৩৫% ঢাকার, ৩৯% চট্টগ্রামের এবং ১৫% গাজীপুরের অধিবাসী। অন্য দু’টি শহর হলো ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ এবং আরেকটি মেট্রোপলিটান শহর সিলেট। ৭৫% ই-কমার্স ব্যবহারকারীর বয়স ১৮-৩৪-এর মধ্যে।

Leave a Reply