Easy Ride Sharing service

যাত্রাপথে নিজের যানবাহনের খালি আসনে একই যাত্রাপথের অন্য যাত্রীকে পরিবহন করে নিয়ে যাওয়াই রাইড শেয়ারিং

কিন্তু বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং সেবার নামে যা চলছে, সেটি বিশুদ্ধ ব্যবসা৷ বাংলাদেশের জন্য নতুন, তাই দেখা দিচ্ছে জটিলতা৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বজুড়ে জ্বালানী সংকট বেশ প্রকট হয়ে দেখা দেয়৷ আর তখনই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে রাইড শেয়ারিং-এর ধারণা৷ কোনো কোনো দেশে এটি কারপুলিং, কস্ট শেয়ারিং নামেও পরিচিত৷ জ্বালানী, সময়, অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমানোও হয়ে ওঠে এর জনপ্রিয়তার কারণ৷

কোনো কোনো দেশে রাইড শেয়ারিংকে সরকারিভাবে সহায়তা করার চেষ্টা চলেছে দীর্ঘদিন ধরে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে কারপুলিং-এর জন্য আলাদা সড়ক করে দেয়া হয়েছিল৷ এমন অনেক পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছে আরো নানা দেশ৷

পরিবেশের কথা বাদই দিলাম৷ অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও গণপরিবহন ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক৷ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এখন গুগল ম্যাপই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার রুট, বাস, ট্রাম বা অন্য সব ধরনের বিকল্প আপনাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ জানিয়ে দেয়৷ বাংলাদেশে কখন, কোথায়, কোন বাস যায়, তা হয়তো চালকেরাও ঠিকমতো বলতে পারেন না৷

নৈরাজ্য তো আছেই৷ বিদেশি বাদ দিলাম, অন্য শহর থেকে ঢাকায় নতুন আসা কারো পক্ষেও গণপরিবহনের রুট, সময়সূচি, ভাড়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া অসম্ভব৷ বিকল্প ব্যবস্থায় যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা গাড়ি কিনছেন৷ এমন অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আছে, যাদের সামর্থ্য না থাকলেও প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি থেকে বাঁচতে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে হলেও কিনছেন ব্যক্তিগত গাড়ি৷

দরকারের সময়ে সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সি, রিকশা, কোনোকিছুই হাতের নাগালে পাওয়া ঢাকা শহরে সম্ভব না৷ আর বৃষ্টি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সমাবেশ, বা বড় কোনো পরীক্ষা থাকলে ঢাকা শহরের যাত্রীদের অবস্থা হয় পাগলের মতো৷

Leave a Reply